ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ চ্যাটে ‘মজা করে’ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নিজ কলেজে ‘বোমা ফেলার’ আহ্বান জানানোয় এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম।
প্রতিবেদন অনুসারে, ২০ বছর বয়সী গ্যাব্রিয়েলা সালদানা নামের ওই ছাত্রীকে ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রধান ক্যাম্পাসের কাছ থেকে আটক করা হয়। পরে তাকে বন্ড কোর্টে হাজির করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশেন ব্যাংক কনভোকেশন সেন্টারের একটি আসন্ন অনুষ্ঠান নিয়ে শিক্ষার্থীরা যখন আলোচনা করছিল, তখন গ্যাব্রিয়েলা গ্রুপ চ্যাটে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ করে লেখেন তিনি যেন তার বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা ফেলেন, কারণ তার সামনে পরীক্ষা এবং তিনি প্রস্তুত নন। চ্যাটটিতে প্রায় ২১৫ জন শিক্ষার্থী ছিলেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন এই বার্তা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পুলিশকে খবর দিলে বৃহস্পতিবার তাকে প্রধান ক্যাম্পাসের কাছ থেকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
বার্তায় লেখা ছিল, ‘@নেতানিয়াহু, আপনি কি দয়া করে এফআইইউ-এর ওপর বোমা ফেলবেন? আগামী সপ্তাহে ফাইনাল পরীক্ষা এবং আমি প্রস্তুত নই।’
এর পরপরই তিনি আরও একটি বার্তায় লেখেন, ওশান ব্যাংক কনভোকেশন সেন্টারে বোমা থাকবে এবং এর জন্য জোনাথন নামের এক ব্যক্তি দায়ী থাকবেন।
গ্রেপ্তারের পর ওই ছাত্রী দাবি করেন, এটি শুধুই ‘রসিকতা’ ছিল। তবে ফ্লোরিডার আইন অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহিংসতার হুমকি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।
আদালতে শুনানির সময় বিচারক মিন্ডি গ্লেজার বিষয়টিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি গ্যাব্রিয়েলার উদ্দেশে বলেন, ব্যক্তিগতভাবে এটি তার কাছে কৌতুক মনে হতে পারে, কিন্তু একজন সাধারণ মানুষের কাছে বা আইনত এটি একটি সুনির্দিষ্ট হুমকি। যদিও বিচারক এটিও উল্লেখ করেন যে বিচারিক প্রক্রিয়ায় এটি অপরাধ হিসেবে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হবে কি না তা সময়সাপেক্ষ, তবে প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারের যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
বর্তমানে ৫ হাজার ডলার মুচলেকার বিনিময়ে গ্যাব্রিয়েলার জামিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
Publisher & Editor