মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

আমাজন জঙ্গলে বাংলাদেশি দুই অভিযাত্রী

প্রকাশিত: ০৭:১৩, ২১ এপ্রিল ২০২৬ |

‎পৃথিবীর বৃহত্তম রেইনফরেস্ট আমাজনের গহিনে পা রাখলেন বাংলাদেশের দুই পর্যটক। ভ্রমণবিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা সালাহউদ্দীন সুমন ও তার সহযাত্রী নিলয় কুমার বিশ্বাস সম্প্রতি ব্রাজিলের মানাউস শহর থেকে শুরু করেন তাদের রোমাঞ্চকর অভিযান।

‎স্থানীয় ট্যুর এজেন্সি ‘আমাজন গেরো ট্যুরসে’র আয়োজনে তারা প্রবেশ করেছেন এই রহস্যময় অরণ্যে।

‎মানাউস থেকে রিও নিগ্রো ও রিও সলিমোয়েস নদীপথে যাত্রা শুরু হয়।

প্রথমেই চোখে পড়ে বিশ্ববিখ্যাত ‘মিটিং অব দ্য ওয়াটারস’। এখানে রিও নিগ্রোর কালো পানি আর রিও সলিমোয়েসের ঘোলাটে পানি পাশাপাশি বয়ে গেলেও মেশে না একে অপরের সঙ্গে। পানির রঙের পার্থক্যে সহজেই আলাদা করা যায় দুটি নদীকে। দুই পর্যটক এমনটাই জানান কালের কণ্ঠকে।

‎নদী পেরিয়ে আমাজন জঙ্গলের ভেতর দিয়ে তৈরি সড়কপথে আড়াই ঘণ্টার যাত্রা। শেষের ১৭ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা। সবুজের মাঝে লালচে মাটির আঁকাবাঁকা পথ যেন অন্য এক জগতের স্বপ্ন বোনে।

‎কাঁচা রাস্তা শেষ হয় মামোরি নদীর পাড়ে।

সেখান থেকে ইঞ্জিনচালিত ছোট নৌকায় চেপে জঙ্গলের আরো গভীরে প্রবেশ করেন তারা। সেখানেই শুরু হয় প্রকৃতির আসল রূপদর্শন। বলছিলেন সুমন ও নিলয়।

‎রিও নিগ্রোর পানিতে গোলাপি ডলফিনের দেখা পাওয়া ছিল দুর্লভ এক অভিজ্ঞতা। সঙ্গে সাতার কাটার তো ছিলই।

এ ছাড়া তারা দেখেছেন কাইম্যান প্রজাতির কুমির, স্কুইরেল বানর, ক্যাপুচিন বানর, নানা প্রজাতির পাখি। প্রথমবারের মতো দেখা পেয়েছেন ধীরগতির প্রাণী শ্লথের। এরা এতই ধীরে চলে যে দেখে মনে হয়েছে স্লো মোশনের কোনো ভিডিও দেখছেন। 

‎বিস্ময়ের আরেক নাম পিরারুকু মাছ। আমাজনের নদীতে পাওয়া সবচেয়ে বড় এই মাছের একেকটির ওজন ১৭০ থেকে ২০০ কেজি পর্যন্ত হয়। স্থানীয় ভাষায় পিরা অর্থ মাছ, রুকু অর্থ লাল। অর্থাৎ পিরারুকু মানে লাল মাছ। আর এই লাল মৎস দেখারও সুযোগ মিলেছে দুজনের।

‎অভিযানের দ্বিতীয় দিনে জঙ্গলে বেঁচে থাকার কৌশল শেখানো হয়য়েছিল তাদের। সাপে কাটলে কোন গাছের বাকল খেতে হবে, কোন গাছ পানি যোগাবে—সবই দেখান অভিজ্ঞ গাইড জেরো ও মার্কো। জঙ্গলে পথ হারিয়ে ফেললে ব্রাজিলিয়ান নাট গাছের কাণ্ডে আঘাত করে শব্দতরঙ্গের মাধ্যমে কীভাবে সংকেত তৈরি করা যায়, তাও শেখানো হয়।

‎আমাজনের অন্যতম পরিচিত মাছ পিরানহাও শিকার করেছেন দুই বাংলাদেশি পর্যটক। শুধু ধরা নয়, ছিল বাংলাদেশি মশলায় রান্না করে খাওয়া। এছাড়া স্থানীয় আদিবাসীদের গ্রাম পরিদর্শন, তাদের সঙ্গে কথা বলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ—সব মিলিয়ে পূর্ণাঙ্গ এক আমাজন অভিজ্ঞতার স্বাদ পেয়েছেন এ দুই অভিযাত্রী।

‎সালাহউদ্দীন সুমন কালের কন্ঠকে বলেন, ‘আমাজন ঘুরে দেখা দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বাংলাভাষী দর্শকদের কাছে এই রহস্যময় জঙ্গল তুলে ধরতে চেয়েছি সবসময়। আমাজনের প্রাণ ও প্রকৃতি আমাকে যেমন বিস্মিত করেছে, তেমনি মুগ্ধতায় পরিপূর্ণ করেছে।’

‎নিলয় কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে আমাজন আমাকে টানত। অসংখ্য ডকুমেন্টারি, সিনেমা, গল্প—সব মিলিয়ে কল্পনায় বড় জায়গা করে নিয়েছিল এই জঙ্গল। বাস্তবে এখানে আসতে পারা সত্যিই দারুণ এক অভিজ্ঞতা।’

বাংলাদেশের এই দুই অভিযাত্রীর আমাজন ভ্রমণ তাদের দক্ষিণ আমেরিকা ও অ্যান্টার্কটিকা অভিযানের অংশ। পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে টার্কিশ এয়ারলাইনস ও ডট ইন্টারনেট। 
‎আমাজন গেরো ট্যুরসের মালিক জেরো বলেছেন, ‘আমাজনের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা কম আনন্দের নয়।’

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor