পেশোয়ার জালমির ১১৮ রানের দাপুটে জয়ের অন্যতম কারিগর ছিলেন বাবর আজম, তার দুর্দান্ত সেঞ্চুরির সুবাদেই দল বড় জয় পায়। দারুণ এই ইনিংসটি নিয়ে সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার বসিত আলি ও কামরান আকমল তাদের ইউটিউব চ্যানেল গেম প্ল্যান-এ কথা বলেছেন এবং প্রশংসা করেছেন।
তবে দুজনই স্পষ্টভাবে বলেছেন, এই পারফরম্যান্সকে বাবরের আন্তর্জাতিক রেকর্ড এবং পারফরম্যান্সের বিতর্ক মেটানোর জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়।
বসিত এই ইনিংসকে পিএসএল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ইনিংস বলে মনে করেন। তিনি বলেন, ‘সে (বাবর) দুইজন স্পিনার এবং আলজারি জোসেফের মুখোমুখি হয়েছে—আর জোসেফ কোনো সাধারণ বোলার নয়, সে একজন ‘রহস্যময়ী’ স্পিনার, যে এই টুর্নামেন্টে সব ব্যাটারকে চাপে রেখেছে। এমন আক্রমণের বিপক্ষে এই সেঞ্চুরি এসেছে। তার ব্যাটিং দেখতে আমার দারুণ লেগেছে।’
সাবেক দুই ক্রিকেটার বিশেষভাবে বাবর ও কুশল মেন্ডিসের পার্টনারশিপের প্রশংসা করেন, যা তাদের মতে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাবরের খেলার ধরণ বদলে দিয়েছে। কামরান বলেন, ‘যখন মেন্ডিস সেঞ্চুরি করেছিল, বাবর তাকে ভালো সাপোর্ট দিয়েছিল। এবার বাবর সেঞ্চুরি করেছে, মেন্ডিস তাকে সমর্থন দিয়েছে। এই জুটি পেশোয়ার জালমির জন্য খুব কার্যকর।’
বসিত আরও বলেন, এই পার্টনারশিপ বাবরের সেই রূপ বের করে এনেছে, যা ভক্তরা দীর্ঘদিন ধরে দেখতে চেয়েছিলেন। তার ভাষ্য, ‘গত দুই-তিন বছরে বাবরের পাশে এমন কোনো ব্যাটার ছিল না। দলটাও এমনভাবে গড়া ছিল না যাতে সে নিজের খেলাটা খেলতে পারে, আধুনিক ক্রিকেটের ধাঁচে এগোতে পারে। মেন্ডিস বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।’
তবে সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই যখন এই ইনিংসকে বাবরের সমালোচকদের জবাব হিসেবে দেখাতে চেয়েছেন, তখন দুজন বিশ্লেষকই তা মানতে রাজি হননি। বসিত বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও পিএসএলের মধ্যে বিশাল পার্থক্য আছে। গত ছয়-সাত বছরে পাকিস্তান ক্রিকেটে যা হয়েছে, সেটাই আসল আলোচনা।’
তিনি যোগ করেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যদি বাবর এই মানের ৫০ শতাংশও দেখাতে পারে, আমরা প্রশংসা করব। কিন্তু ২০২৩, ২০২৪, ২০২৫, ২০২৬ সালের আইসিসি ইভেন্টে আমাদের পারফরম্যান্স কোথায় ছিল? পিএসএল দিয়ে সেটা মাপা যায় না। এখানে শীর্ষ মানের বোলিং বা দল নেই।’
কামরানও একই মত পোষণ করেন এবং সমস্যার জন্য দলের গঠনকে দায়ী করেন, ‘পাকিস্তান দলে এমন ব্যাটিং লাইনআপ নেই। কখনো তাকে চার নম্বরে, কখনো তিন নম্বরে পাঠানো হয়—এটা তার জন্যও ক্ষতিকর, দলের জন্যও।’
টুর্নামেন্টের সামগ্রিক চিত্র নিয়ে বসিত বলেন, বর্তমান ফর্মে পেশোয়ার জালমিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে খুব কম দলই সক্ষম। তার মতে, শুধু মুলতান বা ইসলামাবাদই তাদের সাথে লড়াই করতে পারে—এবং তারা ইতোমধ্যেই মুলতানকে একতরফা ম্যাচে হারিয়েছে। এমনকি জালমির বর্তমান ফর্ম এতটাই শক্তিশালী যে, সুযোগ পেলে তারা আইপিএলে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা পাঞ্জাব কিংসকেও কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
Publisher & Editor