বন্দিশিবিরের অমানবিক পরিবেশ ও মানসিক চাপে বিধ্বস্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য হলেন বাংলাদেশি ছাত্র জয়তু চৌধুরী (২৪)।যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক স্ত্রীকে রেখে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরেছেন তিনি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার (আইস) বন্দিশিবিরে কিছুদিন কাটিয়েছেন। ২০২১ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় যাওয়া জয়তুর অভিযোগ, বন্দিশিবিরের চরম দুরবস্থা তাকে আইনি লড়াই ছেড়ে চলে আসতে বাধ্য করেছে। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
জয়তু চৌধুরী ২০২১ সালে এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। তিনি ইলিনয় ওয়েসলিয়ান ইউনিভার্সিটিতে ফিন্যান্স ও কম্পিউটার সায়েন্সে পড়াশোনা করছিলেন। ২০২৫ সালের আগস্টে কারিগরি জটিলতা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তনের কারণে তার স্টুডেন্ট ভিসার বৈধতা শেষ হয়ে যায়। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো (ডিইউআই) ও ছোটখাটো চুরির অভিযোগ ছিল। এসব ঘটনার জন্য জয়তু অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন। পরে ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করে আইস এজেন্টরা।
গ্রেপ্তারের পর শুরু হয় জয়তুর মানবেতর জীবন। তাকে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের একাধিক ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। জয়তুর অভিযোগ, বন্দিশিবিরগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার বালাই নেই এবং পরিবেশ অত্যন্ত অমানবিক। নিউজউইককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘শুরুতে আমি আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে এবং স্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলাম। কিন্তু বন্দিশিবিরের পরিবেশ আমার মানসিক ও আবেগিক অবস্থাকে ভেঙে চুরমার করে দেয়। একপর্যায়ে আমি এতটাই বিধ্বস্ত হয়ে পড়ি যে, নিজের দেশে ফিরে আসা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিল না।’
জয়তুর স্ত্রী অ্যাশলি ইয়ামিলেট যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। স্ত্রীকে সেখানে রেখেই অনেকটা বাধ্য হয়ে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের পথ বেছে নেন জয়তু। তিনি মনে করেন, মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থা মানুষকে এমন একপর্যায়ে নিয়ে যায় যেখানে লড়াই করার শক্তি ফুরিয়ে যায়। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে যথাযথ চিকিৎসা সুবিধা ও মানদণ্ড বজায় রাখা হয়।
টিকিট নিয়ে জটিলতার বিষয়ে ডিএইচএস জানায়, জয়তু নিজে যে টিকিট কিনেছিলেন সেটি দুবাই হয়ে আসার ছিল, যার জন্য পাসপোর্টের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তার কাছে পাসপোর্ট না থাকায় তিনি সেই ফ্লাইটে ফিরতে পারেননি। পরবর্তীতে আইস নিজ উদ্যোগে ২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তার ফেরার ব্যবস্থা করে।
বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করা জয়তুর দিনকাল কাটছে চরম অনিশ্চয়তায়। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে কাজ খুঁজে পাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। তার এই দুর্দিনে সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন মেরি এলেজ নামের এক শুভাকাঙ্ক্ষী। জয়তুকে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য একটি তহবিল সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন তিনি। ফান্ড সংগ্রহের বিবরণে বলা হয়েছে, জয়তু এখন কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েও নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন। তবে আইনি জটিলতা কাটিয়ে তিনি পুনরায় তার স্ত্রীর কাছে ফিরতে পারবেন কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
Publisher & Editor