আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) কানাডা ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কানাডার একটি ম্যাচও।
ক্রিকেট বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট (এসিইউ) একাধিক অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। তদন্তের আওতায় আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া, উভয় পর্যায়ের ম্যাচে দুর্নীতির সম্ভাব্য লঙ্ঘনের বিষয় রয়েছে।
অভিযোগের সূত্রপাত ‘করাপশন, ক্রাইম অ্যান্ড ক্রিকেট’ নামের একটি অনুসন্ধানী ডকুমেন্টারি থেকে। এটি সম্প্রচার করে কানাডার গণমাধ্যম সিবিসি। সেখানে কানাডার ক্রিকেট প্রশাসন ও ম্যাচ ফিক্সিং সংশ্লিষ্ট নানা গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
বিশেষ করে ১৭ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচটি তদন্তের কেন্দ্রে এসেছে। ওই ম্যাচে কানাডা আগে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ১৭৩ রান তোলে। পরে নিউজিল্যান্ড মাত্র ১৫.১ ওভারে ৮ উইকেট হাতে রেখে জয় তুলে নেয়। নিউজিল্যান্ডের হয়ে গ্লেন ফিলিপস ৩৯ বলে অপরাজিত ৫৯ এবং রাচিন রবীন্দ্র ৩৬ বলে অপরাজিত ৭৬ রান করেন। এই জয়ে সুপার এইটে পৌঁছাতে সাহায্য করে নিউজিল্যান্ডকে।
ডকুমেন্টারিতে বিশেষভাবে কানাডা অধিনায়ক দিলপ্রীত বাজওয়ার একটি ওভার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ওই ওভারে তিনি একটি নো-বল ও একটি ওয়াইডসহ মোট ১৫ রান দেন, যা সন্দেহের জন্ম দেয়।
আইসিসির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ বলেন, ‘প্রতিষ্ঠিত নিয়ম অনুযায়ী চলমান তদন্তের বিষয়ে আমরা বিস্তারিত মন্তব্য করতে পারি না। তবে খেলাটির স্বচ্ছতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
এছাড়া আরেকটি তদন্তে উঠে এসেছে সাবেক কোচ খুররম চৌহানের একটি ফাঁস হওয়া ফোনালাপ, যেখানে তিনি অভিযোগ করেন, বোর্ডের প্রভাবশালী সদস্যরা তাকে নির্দিষ্ট খেলোয়াড় দলে নিতে চাপ দিয়েছেন।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন সাবেক কোচ পাবুদু দাসানায়েকেও, যিনি বর্তমানে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত হওয়ার অভিযোগে মামলা করেছেন।
গত এক বছরে ক্রিকেট কানাডায় প্রশাসনিক অস্থিরতাও লক্ষ্য করা গেছে। সাবেক সিইও সালমান খানের নিয়োগ ও অপসারণ, এমনকি তার বিরুদ্ধে চুরি ও জালিয়াতির অভিযোগও সংস্থাটিকে বিতর্কের মুখে ফেলেছে।
Publisher & Editor