`দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে এই দেশে দায়িত্ব পালন করেছি। কখনো কোনো অভিযোগ ছিল না। তবু আজ আমি হয়রানির শিকার’—কথাগুলো বলেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের সাবেক সেকেন্ড সেক্রেটারি আসিব আহমেদ। সরকারি চাকরির সূত্রে বিদেশে পাড়ি জমানো আসিব আহমেদের কর্মজীবন ছিল দীর্ঘ ও অভিজ্ঞতায় ভরা। নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের থার্ড সেক্রেটারি থেকে পদোন্নতি পেয়ে তিনি সেকেন্ড সেক্রেটারি পদে উন্নীত হন। সহকর্মীদের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন একজন দায়িত্বশীল ও সৎ কর্মকর্তা হিসেবে। নিজের ভাষায়, দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।
কিন্তু এই দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষ প্রান্তে এসে তার জীবন যেন হঠাৎ করেই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। তিনি অভিযোগ করেন, কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই অন্তর্বর্তী সরকার তাকে জোরপূর্বক চাকরি থেকে সরিয়ে দেয়। এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে তার পারিবারিক বাস্তবতায়। অসুস্থ স্ত্রী এবং সন্তানের গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক সময়—সবকিছু মিলিয়ে এক ধরনের মানসিক চাপের মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন তিনি। ‘দুই সপ্তাহের মধ্যে সব গুছিয়ে নিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তখন আমার পরিবারের অবস্থা এমন ছিল যে, কোনো সিদ্ধান্তই নিতে পারছিলাম না,’ বলেন আসিব আহমেদ। তবুও হতাশার মাঝেও দেশের প্রতি তার টান অটুট। প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা দেশের জন্য রেমিট্যান্স পাঠান। এতে দেশ এগিয়ে যাবে, পরিবারও ভালো থাকবে। নিজেরা ভালো থাকুন, কাউকে কষ্ট দেবেন না।’
Publisher & Editor