রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

বসন্তে যে কারণে অ্যালার্জির প্রকোপ বাড়ে

প্রকাশিত: ১২:২২, ২২ মার্চ ২০২৬ | ১০

শীতের শেষে প্রকৃতিতে বসন্তের আগমন ঘটে, চারদিকে নতুন পাতা, ফুল আর রঙের সমারোহ দেখা যায়। কিন্তু এই সুন্দর ঋতুই অনেকের জন্য নিয়ে আসে অস্বস্তিকর এক সমস্যা, অ্যালার্জি। বসন্তকালে গাছপালা ও ঘাসের পরাগরেণু বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে, যা অনেকের শরীরে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ফলে এ সময় অনেকেই হাঁচি, সর্দি বা চোখ চুলকানোর মতো সমস্যায় ভোগেন।

বসন্তের অ্যালার্জির প্রধান কারণ বাতাসে ভেসে বেড়ানো পরাগরেণু বা পোলেন। গাছ, ফুল ও ঘাস থেকে এসব ক্ষুদ্র কণিকা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে। যাঁদের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা এসব কণিকাকে ক্ষতিকর হিসেবে ধরে নেয়, তাঁদের শরীরে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এ ছাড়া ধুলাবালু, ছত্রাকের স্পোর বা পোষা প্রাণীর লোমও অ্যালার্জির উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে।

বসন্তকালের অ্যালার্জির লক্ষণ সাধারণত সর্দি-কাশির মতো হলেও কিছু পার্থক্য রয়েছে। যেমন বারবার হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, চোখ লাল হয়ে যাওয়া বা চুলকানো, গলা খুসখুস করা এবং কখনো কখনো মাথাব্যথা বা ক্লান্তি। অনেক সময় এসব উপসর্গ কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে, বিশেষ করে যখন বাতাসে পরাগরেণুর মাত্রা বেশি থাকে।

এ ধরনের অ্যালার্জি প্রতিরোধে কিছু সহজ সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। প্রথমত, বাইরে থেকে এসে হাত-মুখ ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া উচিত। বাইরে গেলে সানগ্লাস বা মাস্ক ব্যবহার করলে চোখ ও নাকে পরাগরেণু কিছুটা কম প্রবেশ করে। বাড়ির দরজা-জানালা দীর্ঘ সময় খোলা না রেখে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা উচিত। নিয়মিত বিছানার চাদর ও বালিশের কভার ধুয়ে ফেলাও উপকারী।

বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার করলে নাকে পরাগরেণু কিছুটা কম প্রবেশ করে
যাঁদের অ্যালার্জি বেশি, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার করা দরকার হতে পারে। অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ বা নাকের স্প্রে অনেক সময় উপসর্গ কমাতে সাহায্য করে। তবে কোনো ওষুধ নিজে থেকে না খেয়ে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রকৃতির সুন্দর ঋতুগুলোর একটি বসন্ত। একটু সচেতনতা ও সঠিক যত্ন নিলে অ্যালার্জির সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রেখে এই ঋতুর সৌন্দর্য উপভোগ করা সম্ভব। তাই অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor