মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রোজায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কি পরিমাণ টকদই খাবেন

প্রকাশিত: ০৩:০৭, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |

রমজানে ইফতার কিংবা সেহরিতে টকদই অনেকেরই পছন্দের খাবার। হালকা ও সহজপাচ্য এ খাবারটি শুধু স্বাদের জন্য নয়, পুষ্টিগুণের কারণেও বেশ উপকারী। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে টকদই খেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

টকদইয়ে ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, প্রোটিন এবং বিভিন্ন ভিটামিন থাকে, যা শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টকদই খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হতে পারে।

দ্য জার্নাল অব নিউট্রিশনে প্রকাশিত এক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়মিত দই খাওয়ার অভ্যাস টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) দইকে স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। ২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে টকদই খান, তাদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রায় ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কম হতে পারে।

যেভাবে টকদই সুগার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে

টকদই একটি ফার্মেন্টেড খাবার, যাতে প্রোবায়োটিক থাকে। এসব উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়, যা বিপাকক্রিয়া ঠিক রাখতে এবং শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত দই খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমতে পারে। ফলে ইনসুলিন কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়ে না।

দইয়ের অন্যান্য উপকারিতা

টকদইয়ের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম হওয়ায় এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপযোগী। কম জিআই খাবার ধীরে ধীরে রক্তে গ্লুকোজ ছাড়ে, ফলে হঠাৎ সুগার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। এছাড়া টকদই বিপাকক্রিয়া সক্রিয় রাখে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এতে থাকা প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। ক্যালসিয়াম ও প্রয়োজনীয় ভিটামিন শরীরকে সুস্থ রাখতেও সহায়ক।

দিনে কতটা টকদই খাবেন

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ২০০ গ্রাম বা এক কাপের মতো ঘরে তৈরি টকদই খাওয়া যেতে পারে। এটি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে অতিরিক্ত মিষ্টি বা ফ্লেভারযুক্ত দই এড়িয়ে চলা ভালো।

টকদইয়ের সঙ্গে ফল, বাদাম বা বিভিন্ন ধরনের বীজ মিশিয়ে খেলে পুষ্টিগুণ আরও বাড়ে। তবে যাদের ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে দই খাওয়াই নিরাপদ।

নিয়মিত ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে টকদই অন্তর্ভুক্ত করলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। ছোট একটি খাদ্যাভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে বড় উপকার এনে দিতে পারে।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor