রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ধৈর্য আর মানসিক শক্তিই একজন গোলরক্ষকের সবচেয়ে বড় শক্তি : পাপ্পু

প্রকাশিত: ০৬:১২, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |

জাতীয় দলের ক্যাম্পে জায়গা হলেও এখনো লাল-সবুজের জার্সিতে অভিষেক হয়নি পাপ্পু হোসেনের। কিন্তু আছেন কোচ হাভিয়ের কাবরেরার গুডবুকে। ঘরোয়া ফুটবলের নিয়মিত এই মুখ নিজেকে আরো ছাড়িয়ে যেতে চান। সেসব নিয়েই কালের কণ্ঠের সঙ্গে কথা বলেছেন এই গোলরক্ষক।

প্রশ্ন: আপনার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল?

পাপ্পু হোসেন: শুরুর দিকে আমার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল পড়াশোনা আর ফুটবল প্র্যাকটিসের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা। আমাদের স্থানীয় মাঠে প্রতিদিন বিকেলে প্র্যাকটিস হতো, কিন্তু ওই একই সময়ে—দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত—স্কুলের ক্লাস থাকত। ফলে নিয়মিত অনুশীলন করা খুব কঠিন হয়ে পড়ত। পাশাপাশি ফুটবলে সময় দিলে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটবে—এই চিন্তায় পরিবার থেকেও শুরুতে খুব একটা সমর্থন পাইনি।

পড়াশোনার চাপ আর পরিবারের অমত—এই দুই বাধা পেরিয়েই আমাকে এগোতে হয়েছে।
প্রশ্ন: জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তোলার প্রথম অনুভূতিটা কেমন ছিল?

পাপ্পু হোসেন: জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেওয়াটা যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্য স্বপ্নের মতো। যখন প্রথমবার ডাক পেলাম, অনুভূতিটা ছিল মিশ্র। একদিকে আনন্দ, অন্যদিকে ভয়—প্রত্যাশা পূরণ করতে পারব কি না।

তবে নিঃসন্দেহে সেই মুহূর্তটা আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি।
প্রশ্ন: আপনার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় ম্যাচ কোনটি?

পাপ্পু হোসেন: ২০১৭ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ টুর্নামেন্টে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটা আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয়। আমরা একপর্যায়ে ৩ গোল পিছিয়ে পড়েছিলাম, কিন্তু সেখান থেকে ফিরে ৪–৩ ব্যবধানে জয় পাই। ওই ম্যাচটাই আমার ক্যারিয়ারের সেরা ম্যাচ বলে মনে করি।

প্রশ্ন: আধুনিক ফুটবলে গোলরক্ষকের ভূমিকা কতটা বদলেছে বলে মনে করেন?

পাপ্পু হোসেন: এখনকার ফুটবল অনেক বদলে গেছে।

গোলরক্ষক এখন শুধু বল আটকানোর জন্য নয়, সে এখন একাদশতম আউটফিল্ড প্লেয়ার। নিচ থেকে বিল্ড-আপ শুরু করার জন্য পায়ে বল খেলার দক্ষতা এখন বাধ্যতামূলক। যারা এটা পারে না, আধুনিক ফুটবলে তাদের টিকে থাকা কঠিন।
প্রশ্ন: গোল খাওয়ার পর মানসিকভাবে নিজেকে কীভাবে সামলান?

পাপ্পু হোসেন: গোল খাওয়া একজন গোলরক্ষকের জন্য সবচেয়ে কষ্টের মুহূর্ত। তবে আমি চেষ্টা করি ওই ভুলটা নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে না ভাবতে। নিজেকে বলি—“যা হয়ে গেছে, তা শেষ। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরের সেভ।” মনোযোগ হারালে আরও গোল খাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

প্রশ্ন: সোশ্যাল মিডিয়ায় নেতিবাচক মন্তব্য আপনাকে কতটা প্রভাবিত করে?

পাপ্পু হোসেন: মাঝে মাঝে নেতিবাচক মন্তব্য চোখে পড়ে, যা কিছুটা হলেও খারাপ লাগে। তবে পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে আমি এসব থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করি। মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই সমালোচনার জবাব দিতে পছন্দ করি।

প্রশ্ন: যারা ভবিষ্যতে গোলরক্ষক হতে চায়, তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

পাপ্পু হোসেন: আমার পরামর্শ একটাই—প্রচণ্ড ধৈর্য ধরতে হবে। গোলকিপিং এমন একটি পজিশন, যেখানে একটি ছোট ভুলেই নায়ক থেকে খলনায়ক হয়ে যেতে হয়। তাই কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি মানসিকভাবে ইস্পাতকঠিন হতে হবে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের তরুণ গোলরক্ষকদের প্রধান দুর্বলতা কোথায় দেখেন?

পাপ্পু হোসেন: আমাদের তরুণ গোলরক্ষকদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ‘এরিয়াল বল’ বা হাই বল জাজমেন্ট। ক্রস থেকে আসা বল ধরতে গিয়ে অনেক সময় তারা সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে। পাশাপাশি গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে রক্ষণভাগকে গাইড করার কমিউনিকেশনেও উন্নতির জায়গা আছে।

প্রশ্ন: দুই ভাই (সুজন হোসেন) একসঙ্গে জাতীয় দলে থাকার অনুভূতিটা কেমন ছিল?

পাপ্পু হোসেন: এটা আমাদের পরিবারের জন্য পরম গৌরবের বিষয়। একই সঙ্গে দুই ভাই দেশের পতাকা বহন করছি—এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। ড্রেসিংরুমে ভাইয়ের সঙ্গে থাকা মানে বাড়তি সাহস। আমরা মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেয়ে একে অপরকে সাহায্য করতেই বেশি পছন্দ করতাম। বড় ভাই সবসময় আমার সেরা মেন্টর হিসেবে পাশে ছিলেন

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor