শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫

কবে থেকে পশুর দুধ পান করছে মানুষ?

প্রকাশিত: ১২:৫৪, ২৭ আগস্ট ২০২৫ | ১৬

তোমরা নিশ্চয়ই জানো, দুধ খুবই পুষ্টিকর খাদ্য। এতে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ‘এ’ ও ‘ডি’ এবং রিভোফ্লাভিন থাকে।  শিশুকে অন্তত ছয় মাস মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দেন ডাক্তাররা। আরেকটু বড় হলে গরুর দুধ খেতে দেওয়া হয়।

তবে তোমরা কি জানো, ঠিক কবে থেকে মানুষ গরু, ছাগল বা ভেড়ার দুধ পান শুরু করে? গবেষকদের মনেও এমন প্রশ্ন জেগেছে। তাই তাঁরা এ নিয়ে অনুসন্ধান করেছেন। পশুর দুধ পান করার প্রাচীনতম নিদর্শন পেয়েছেন তুরস্কের মারমারা সাগরের কাছে। আজ থেকে প্রায় ৯ হাজার বছর আগের একটি মৃৎপাত্রের অবশিষ্ট অংশে দুধের চর্বির নমুনা পাওয়া গেছে।

বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছেন জেসিকা হেন্ডি। তিনি কানাডার ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির প্রত্নতাত্ত্বিক বিজ্ঞানী। তিনি দেখিয়েছেন, অনেক বছর আগে মানববসতি স্থাপিত হওয়া তুরস্কের একটি অঞ্চল থেকে পাওয়া পাত্রে দুগ্ধজাতীয় দ্রব্য মিশ্রিত এক ধরনের শস্যের নমুনা মিলেছে। যেটা দেখতে বার্লির মতো।

পরে তুরস্ক থেকে ককেশাস অঞ্চল হয়ে ইউরোপে প্রাণীর দুধ খাওয়ার অভ্যাস চালু হয়। উত্তর ইউরোপে খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ সহস্রাব্দে পনির তৈরির প্রমাণও পেয়েছেন গবেষণায়।
জেনে অবাক হবে, পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬৮ শতাংশ শৈশব পেরোনোর পর আর দুধ হজম করতে পারে না। পূর্ব এশিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দুধ হজম হয় না। মধ্য এশিয়ায় এ হার শতকরা ৮০ ভাগ।

ভিয়েতনামে মাত্র ২ শতাংশ। ভাবছ, তাহলে আমাদের দেশে দুধ হজম করতে পারে না কতজন? শতকরা প্রায় ৬৭ জন মানুষ। শুধু মানুষ নয়, শৈশব পেরোনোর পর বেশির ভাগ স্তন্যপায়ী প্রাণীরই দুধ হজমে সমস্যা হয়। নিশ্চয়ই প্রশ্ন জাগছে, কেন দুধ হজমে সমস্যা হয় মানুষের? কারণটা বলছি।
দুধ ও দুগ্ধজাতীয় দ্রব্যে রয়েছে ল্যাকটোজ নামের এক ধরনের শর্করা। এটি ভাঙার জন্য ল্যাকটেজ নামক এনজাইমের দরকার পড়ে। দেহে পর্যাপ্ত পরিমাণ ল্যাকটেজ না থাকলে তখন অন্ত্রে উপস্থিত ব্যাকটেরিয়া ল্যাকটোজ ভাঙতে থাকে। ফলে পেটে ফোলা ভাব, পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া ও বমি বমি ভাব হয়। মাতৃদুগ্ধ পানের সময় পেরিয়ে গেলে মানবদেহে ল্যাকটেজ এনজাইমের উৎপাদন কমে আসে। তবে ডাক্তার মিরান্ডা লোমার বলেন, ল্যাকটোজ অসহিষ্ণু মানুষও চা বা অন্য খাবারের সঙ্গে দৈনিক ৫০ মিলি থেকে ৩৭৫ মিলি দুধ পান করতে পারে।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor