বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড় ক্ষয়ের পাশাপাশি মাংসপেশিও দুর্বল হয়ে পড়ে। শুরু হয় পেশির ক্ষয়। এটা বিশেষ করে বেশি হয় নারীদের। শরীরের এমন অবস্থাকে ১৯৮৮ সালে প্রথম নামকরণ করা হয় সারকোপেনিয়া। গ্রিক শব্দ ‘সারকো’ অর্থ মাংসপেশি ও ‘পেনিয়া’ মানে অভাব বা ঘাটতি থেকে এই নাম এসেছে। সাধারণত এমন সমস্যার লক্ষণ শুরু হয় ৪০ বছর বয়সের দিকে এবং সত্তরোর্ধ্ব ব্যক্তিদের ৫০ শতাংশ এ সমস্যায় আক্রান্ত হন।
কেন হয়
বয়সজনিত সারকোপেনিয়ার একটি অন্যতম কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাওয়ার রুচি ও চাহিদা অনেকাংশে কমে যাওয়া। ৪০ থেকে ৭০ বছর বয়সে খাবার গ্রহণের পরিমাণ আগের চেয়ে প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যায়। খাবারের প্রতি দেখা দেয় অনীহা। অনেক সময় নানা রোগের কারণে ও দাঁত না থাকায় খাবার গ্রহণ সীমিত হয়ে পড়ে। আবার স্মৃতিভ্রংশ বা ডিমেনশিয়া দেখা দিলে আক্রান্ত ব্যক্তি খেতে চান না।
স্বাভাবিক বার্ধক্য, দীর্ঘস্থায়ী অচলতা বা স্থবিরতা, অপুষ্টি, খাদ্যে পর্যাপ্ত প্রোটিনের অভাব, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, হরমোন ও মেটাবলিজমের পরিবর্তন, অন্তঃসত্ত্বা ও দুগ্ধদানকারী মায়ের সঠিক পুষ্টি না পাওয়া, ক্রনিক কিডনি রোগ থাকলে এ সমস্যা হয়। এ ছাড়া খাবার শোষণের সমস্যা, ভিটামিন ডির অভাব, আইবিএস, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, স্ট্রোক ও স্নায়ুর রোগীদের সারকোপেনিয়া হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
জটিলতা ও প্রতিকার
শ্বাস-প্রশ্বাসনালির মাংসপেশি দুর্বল হলে ফুসফুসের একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ হতে পারে। খাদ্যনালির পেশি দুর্বল হওয়ার কারণে খাবার গিলতে সমস্যা হয়, খেতে গেলে কাশি ওঠে বা ওপরে উঠে আসে। কোমরে ব্যথা ও দুর্বলতা হয়। চলাফেরার ভারসাম্য নষ্ট হলে হঠাৎ পড়ে যাওয়ার প্রবণতা এবং ভাঙা ও মচকানোর ঝুঁকি বেড়ে যায়।
পেশির ক্ষয় বয়স বাড়ার সঙ্গে চলমান একটি প্রক্রিয়া। এটি প্রতিরোধে শুরু থেকেই সচেতন হতে হবে। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন ও উন্নয়ন করতে হবে। বয়স্কদের সঠিক পুষ্টি ও আমিষ গ্রহণের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। পেশির শক্তি বাড়াতে কিছু ফিজিওথেরাপি বা ব্যায়াম কার্যকর। সব সময় সচল থাকার চেষ্টা করতে হবে। পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি, ক্যালসিয়াম, মিনারেল গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্ট নিতে হবে। কম বয়সেই ধূমপান পরিহার করতে হবে।
সুহানা খান
হ্যান্ড গ্রিপিং এক্সারসাইজ করে হাত ও কবজির সক্ষমতা বাড়ানো যায়। শুয়ে বা বসে হাঁটু ভাঁজ করা, স্টেশনারি বাইক ব্যবহার করে ব্যায়াম, বিছানা বা মেঝেতে মাদুরে শুয়ে ঊরুর কোয়াড্রিসেপস মাংসপেশিকে সংকুচিত করার ব্যায়াম করলে পড়ে যাওয়ার প্রবণতা কমে, শরীরে ভারসাম্য বাড়াতে নির্দিষ্ট লাইন ধরে হাঁটা যেতে পারে। সামান্য ভারোত্তোলন পেশির শক্তি বাড়াতে বেশ কার্যকর।
Publisher & Editor