শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫

কিছু খেলেই বদহজম? অন্ত্রের এই সমস্যা হতে পারে মানসিক কারণেও

প্রকাশিত: ০৩:৫৭, ২০ আগস্ট ২০২৫ | ২১

অনেকেরই কিছু খেলেই গ্যাস-অম্বলের সমস্যা দেখা দেয়। দিনভর বুক জ্বালা, পেট ব্যথার সমস্যা চলতেই থাকে। গ্যাসের ওষুধ খেয়ে সাময়িক স্বস্তি মিললেও সমাধান হয় না কিছুতেই। নিয়ম মেনে খাওয়া-দাওয়া ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও একই অবস্থা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যা মূলে থাকতে পারে দিনভর দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগের কারণ। অন্ত্রের স্বাস্থ্য বিঘ্নিত হওয়ার মূলে রয়েছে আপনার মানসিক অবস্থা। আর এমনটাই জানাচ্ছে সাম্প্রতিক গবেষণা।

আপনার মেজাজের ওপরই নির্ভর করে আপনার হজমের স্বাস্থ্য।

করপোরেট লাইফ, অত্যধিক ব্যস্ততা, মানসিক চাপ, উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা প্রভৃতি অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার সূক্ষ্ম ভারসাম্যকে ব্যাহত করে। ধীর বা ত্বরান্বিত করে হজম প্রক্রিয়াকে। এমনকি প্রভাবিত করতে পারে ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমের মতো অবস্থাকেও।
 
হার্ভাড হেলথ পাবলিশিংশের একটি তথ্য মতে, উদ্বেগ, চাপ বা উত্তেজনার মতো আবেগগুলো গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সিস্টেমকে প্রভাবিত করে।

এমনকি এনআইএইচে প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে, অত্যধিক মানসিক চাপ অন্ত্রের স্বাস্থ্যকে দুর্বল করে তোলে। পেটের উপকারী জীবাণু হ্রাস করে। পরিবর্তে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে বমি ভাব, পেট ব্যথা, বদহজম, গ্যাস-অম্বল লেগেই থাকে।
কী করবেন

উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তা কিংবা যেকোনো মানসিক চাপ থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করুন।

অযথা উত্তেজিত হয়ে উঠবেন না। প্রতিদিন আধ ঘণ্টা করে যোগব্যায়াম করার চেষ্টা করুন। খাওয়ার পর ৫ মিনিট বজ্রাসনে বসে থাকুন। নিয়মিত ও দীর্ঘ অভ্যাসে সুফল পাবেন। সঙ্গে অন্যান্য সমস্যাও ধীরে ধীরে দূর হবে। ফাস্ট ফুড খাওয়া বন্ধ করুন। মসলাদার ও ভাজাপোড়া থেকে দূরে থাকুন। বেশি করে ফাইবার যুক্ত খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে বদহজমের সমস্যা কমবে। পেটের স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে।

সকালে ঘুম থেকে উঠেই তামার পাত্রে ভেজানো পানি পানের চেষ্টা করুন। এতে গ্যাস-অম্বলের সমস্যা চিরতরে মিটবে। এ ছাড়া দৈনিক ৩ লিটার পানি পান করুন। এর ফলে শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের হয়ে শরীর থাকবে সতেজ ও সুস্থ।

প্রতিদিন সকালে ৩০ মিনিট শরীরচর্চা করুন। যোগব্যায়ামের পাশাপাশি প্রাণায়াম করুন। সময়ের অভাব হলে অন্তত ১৫ মিনিট অনুলোম-বিলোম, কপালভাতি বা যেকোনো সহজ প্রাণায়াম অভ্যাস করতে পারেন। এতে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। ধীরে ধীরে হজম প্রক্রিয়া আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor