আবাহনীতে মাত্র একজন বিদেশি, মালির সুলেমান দিয়াবাতে। সেখানে কিরগিজস্তানের মুরাস ইউনাইটেডের স্কোয়াডে রয়েছেন ১২ জন বিদেশি ফুটবলার। শক্তিমত্তায় আবাহনী খানিকটা পিছিয়ে থাকলেও কোচ মারুফুল হক ও অধিনায়ক আসাদুজ্জামান বাবলু দুই জনই জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
দেশের অন্যতম সেরা কোচ মারুফুল হক। তার ট্যাকটিসে দেশি-বিদেশি অনেক কোচই ধরাশয়ী হয়েছেন। আগামীকালকের ম্যাচে মারুফের ট্যাকটিস ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ। আজ খানিকটা আভাস দিয়ে বলেন, 'আমরা তাদের খেলা ধ্বংস করার দিকে বেশি মনোযোগ দেব।' এতে বোঝায় খানিকটা রক্ষণাত্নক ফুটবল খেলে প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেয়া। এই সংক্রান্ত আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি অবশ্য বলেছেন, 'ধ্বংস বেশি করলেও সৃষ্টিও করব কিছু। আমি কালকের ম্যাচ নিয়ে আশাবাদী।'
কিরগিজস্তান বাংলাদেশের চেয়ে র্যাংকিংয়ে এগিয়ে। মধ্য এশিয়ার দেশটির ক্লাবের বিপক্ষে বাংলাদেশের ক্লাবগুলোর তেমন জয়ের রেকর্ড নেই। মুরাসও কাগজে-কলমে বাংলাদেশের আবাহনীর চেয়ে খানিকটা এগিয়ে। এরপরও কিভাবে আত্নবিশ্বাসী? এমন প্রশ্নের উত্তরে মারুফ বলেন, 'আস্থাটা আমার এক দিনেই আসেনি। গত দুই তিন সপ্তাহ অনুশীলনে যা চেয়েছি তাই ওরা করতে পেরেছি। আমার ট্রেনিংয়ে আস্থা থাকলে এবং মাঠে কোনো ভয় না পেলে ওরা সাকসেস হবে। আমাদের খেলোয়াড়দের বেলায় বলব হোম অ্যাডভান্টেস সব সময় আমাদের জন্য ডিসঅ্যাডভান্টেজ হয়।'
কিরগিজস্তানের মুরাস সম্পর্কে মারুফের পর্যবেক্ষণ, 'তাদের দলে ইউক্রেনের অনেক খেলোয়াড় আছে, বিশেষ করে রক্ষণের চারজনই তাদের ইউক্রেনের। তারা প্রফেশনাল টিম, তারাতারি তার প্রতিপক্ষকে বুঝতে পারবে। তাদের জন্য এটা কোনো ডিস অ্যাডভান্টেজ না।আমরা যে লক্ষ্য নিয়ে শুরু করেছিলাম, সেখানেই আছি। তবে প্রতিপক্ষ কঠিন, তাদের সর্বশেষ ৭-৮ টা ম্যাচ দেখে মনে হয়েছে। যদি আমার খেলোয়াড়েরা মাঠে প্ল্যান বাস্তবায়ন করে, নিজেদের শক্তির জায়গা বাস্তবায়ন করে তাহলে ভালো কিছু হবে।'
গত মৌসুমে আবাহনী প্রথম লেগে বিদেশি ছাড়াই খেলেছে। এরপরও লিগে রানার্স আপ হয়েছে। এবার দলবদলে গতবারের চেয়ে খানিকটা বেটারই মনে করছেন কোচ, 'সর্বশেষ মৌসুমে যে ভুল ছিল সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে এই মৌসুম শুরু করছি। আর যেহেতু আমাদের বিদেশি প্লেয়ার একটা পেয়েছি, আমার চাওয়া ছিল তিনটি। তারপরও বাইরে থেকে আল আমিন, মোরছালিন, কাজেম শাহ আসায় আগের বছর থেকে শক্তিশালী হয়েছে মনে করি।'
মোহামেডানের দিয়াবাতে এবার আবাহনীতে এসেছে। কালকের ম্যাচে সেও খানিকটা ভরসা মারুফের জন্য, 'যেহেতু ওকে (দিয়াবাতে) ছয় বছর ধরে দেখেছি, যদিও প্রতিপক্ষ দলে। ওকে আমার জানা আছে। গতকালকে সেশনে ওর সঙ্গে ট্রেনিং সেশন করেছি ও নিতে পেরেছে। আমি আশাবাদি কালকে যদি সেগুলো মাঠে ৫০ শতাংশ করতে পারে আমি খুশি হবো।'
আগামীকালের জয়ী দল এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের মূল পর্বে খেলবে। কালকের ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে ড্র থাকলে টাইব্রেকারে নিষ্পত্তি হবে বলে জানিয়েছেন আবাহনী কোচ।
Publisher & Editor