রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫

নিউইয়র্ক সিটিতে বাংলাদেশি জনপ্রতিনিধি না থাকার প্রধান ৩ কারণ

প্রকাশিত: ০২:৫৬, ০৬ আগস্ট ২০২৫ | ২৮

নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা ও পার্কচেস্টারসহ পাঁচটি এলাকায় ভোটার উপস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় তিন থেকে পাঁচ গুণ বেড়েছে। এ এলাকাগুলোতেই বাংলাদেশি আমেরিকানদের ঘনবসতি এবং এ প্রবণতা কেবল একটি রাজনৈতিক জাগরণের ইঙ্গিত দেয়। নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনের প্রাইমারিতে এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা ও পার্কচেস্টারসহ পাঁচটি এলাকায় ভোটার উপস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় তিন থেকে পাঁচ গুণ বেড়েছে। এ এলাকাগুলোতেই বাংলাদেশি আমেরিকানদের ঘনবসতি এবং এ প্রবণতা কেবল একটি রাজনৈতিক জাগরণের ইঙ্গিত দেয়।

সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক-সিইউএনওয়াইয়ের গবেষণাতেও দেখা যায়, নিউ ইয়র্ক সিটিতে বাংলাদেশি জনসংখ্যা খুব দ্রুতগতিতে বাড়ছে। শুধু কুইন্স এলাকাতেই বর্তমানে ৫০ হাজার বা তার বেশি বাংলাদেশি বাস করেন, যাদের অনেকেই এখন ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত।

এ ক্ষেত্রে একটি বাস্তবতা আমাদের মনে রাখতে হবে যে, এই ৫০ হাজার বাংলাদেশি কুইন্সের ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন বিভিন্ন স্টেট অ্যাসেম্বলি ও সিটি কাউন্সিল ডিস্ট্রিক্টে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, জ্যামাইকা এলাকাতেই আলাদা অ্যাসেম্বলি ও কাউন্সিল ডিস্ট্রিক্ট রয়েছে।

এসব ডিস্ট্রিক্টে সাধারণত তিন থেকে ছয় হাজার ভোট পেলেই কাউন্সিল বা অ্যাসেম্বলি নির্বাচনে জয়লাভ করা যায়। নিউ ইয়র্ক সিটির রাজনৈতিক বাস্তবতায় যিনি ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি জয় করেন, তিনিই সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হন।

তাহলে প্রশ্ন হলো এ বিশাল ভোটার শক্তি থাকা সত্ত্বেও কেন এখনও আমরা নির্বাচিত হতে পারি না?

এর পেছনে রয়েছে তিনটি বড় কারণ।

১. নির্বাচনি সীমানা বিভাজন তথা রিডিস্ট্রিকটিং

বাংলাদেশিদের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোর (যেমন: জ্যামাইকা বা জ্যাকসন হাইটস) সীমানা এমনভাবে বিভক্ত করা হয়েছে যে, পুরো বাংলাদেশি ভোটার একত্রে কাউকে ভোট দিতে পারেন না। ফলে ভোট বিভক্ত হয়ে যায় এবং জয় কঠিন হয়।

২. রাজনৈতিক গোষ্ঠীবাদিতা ও সুযোগ না দেওয়া

কুইন্সে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি নতুন নেতৃত্বকে স্বাগত জানাতে অনিচ্ছুক। যখন নতুন কোনো আসন খালি হয়, তখন তারা বাংলাদেশি অ্যামেরিকান প্রার্থীদের সমর্থন করে না, বরং নিজেদের প্রতিষ্ঠিত গোষ্ঠীর লোকজনকেই বারবার মনোনয়ন দেয়।

নিজেদের পক্ষ থেকে সংগঠনের অভাব

আমরা নেতা-নেত্রীদের ডাকি, ছবি তুলি, কিন্তু রাজনৈতিক দাবিগুলো জোর দিয়ে তুলি না। যেমন: সরকারি পদে নিয়োগ, বাজেট বরাদ্দ বা প্রার্থী সমর্থন। এসব দাবির অভাব আমাদের পিছিয়ে রাখে।

কীভাবে পরিবর্তন সম্ভব

প্রথমত, আমাদের বুঝতে হবে যে, বাংলাদেশি কমিউনিটির হাতে বাস্তব ভোটের শক্তি রয়েছে, কিন্তু শুধু ১০ শতাংশ মানুষ ভোট দিলে হবে না। একটি নির্দিষ্ট অ্যাসেম্বলি বা কাউন্সিল ডিস্ট্রিক্টে বসবাসরত বাংলাদেশিদের অন্তত ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ভোটার টার্নআউট নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই আমাদের প্রার্থী বাস্তবভাবে জয়লাভ করতে পারবেন।

এ ভোটার সংখ্যা আমাদের রয়েছে। এখন প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা—ভোটার রেজিস্ট্রেশন, সচেতনতা বৃদ্ধি, সংগঠন, অর্থ সহায়তা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ক্ষমতা কেউ উপহার দেবে না। তা সংগ্রহ করতে হয়। আমাদের প্রার্থীদের সাহসিকতার সঙ্গে মাঠে নামতে হবে। কমিউনিটির তরফ থেকে দরকার ঐক্য, দায়িত্ববোধ ও সংগঠিত সমর্থন।

২০২৫ সাল: পরিবর্তনের শ্রেষ্ঠ সুযোগ

এ বছর কয়েকজন বাংলাদেশি অ্যামেরিকান নেতা নিউ ইয়র্ক স্টেইট অ্যাসেম্বলি নির্বাচনে দাঁড়ানোর কথা ভাবছেন। আমাদের এখনই প্রস্তুতি নেওয়া দরকার।

যদি আমরা ২০২৫ সালের নির্বাচনে সংগঠিতভাবে অংশ নিই, তাহলে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশি কমিউনিটি থেকে একজন নয়, একাধিক নেতা নির্বাচিত হতে পারেন।

আমরা দেখিয়েছি, আমরা ভোট দিতে পারি। এখন সময় এসেছে ক্ষমতার টেবিলে আমাদের জায়গা নিশ্চিত করার।

Mahfuzur Rahman

Publisher & Editor