গ্রেনেড হামলায় বিএনপির সম্পৃক্ততা নিয়ে সন্দেহ নেই : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ঢাকা, ২২ আগস্ট : ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনায় তৎকালীন বিএনপি সরকারের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তার কোনো সন্দেহ নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিভীষিকাময় সেই হামলার সপ্তম বার্ষিকীতে গতকাল রোববার সকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের অস্থায়ী বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, এটা প্রকাশ্য দিবালোকের মতো সত্য সরকারের মদদ ছাড়া এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে না। পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকা- ঘটানো হয়েছিল। তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী র‌্যালির আগে ওই গ্রেনেড হামলায় দলের তৎকালীন
মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ অন্তত ২৪ জন নিহত হন। আহত হন কয়েকশ মানুষ। হামলার ধরণ ও প্রচ-তা থেকে এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনাকে হত্যা করাই ছিল এর উদ্দেশ্য। শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তার শ্রবণইন্দ্রিয়।
রাজনীতিতে সুস্থ ধারা ফিরিয়ে আনার জন্য ওই হামলার বিচারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবেই প্রতিহত করতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মেরে শেষ করে দেবো এটা হবে না। এ জন্য ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার হবে। অবশ্যই বিচার হবে। আর এই বিচারের রায় বাংলার মাটিতেই কার্যকর হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সেজন্য কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। যতো বাধাই আসুক, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।
২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনা স্মরণ করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, আমি বক্তব্য শেষে মাইক রেখে সিঁড়ির দিকে পা বাড়িয়েছি। তখন গোর্কি (যুগান্তরের প্রধান ফটোসাংবাদিক এস এম গোর্কি) আমাকে বললো, ‘আপা একটু দাঁড়ান। আমি ছবি নিতে পারিনি। আমি দাঁড়ালাম। তখনই হামলা শুরু হলো। আমার পাশে হানিফ ভাই (ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ) ছিলেন। গ্রেনেডের যে স্পিøন্টার আমার গায়ে লাগার কথা ছিল, তা ওনার গায়ে লেগেছিল। টপ টপ করে রক্ত আমার গায়ে পড়ছিল। শেখ হাসিনা বলেন, যে গ্রেনেড যুদ্ধের সময় শত্রুদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয় তা আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হলো।
সেদিন গ্রেনেড হামলার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। হামলাকারীদের পলায়ন নির্বিঘœœ করতেই সেদিন আহতদের উদ্ধার না করে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জ করে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তখনকার বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ওই সময় যারা ক্ষমতায় ছিল তারা হামলার আলামত রক্ষা করেনি। অবিস্ফোরিত গ্রেনেড আলামত হিসেবে না রেখে ধ্বংস করা হয়। কী সত্য লুকানোর জন্য এগুলো করা হয়েছিল? এতো বড় ঘটনার বিচার না করে জজ মিয়ার নাটক সাজানো হয়েছিল।
২১ আগস্টের হামলায় নিহত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য রফিকুল ইসলামের (আদা চাচা) কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিটি মিছিল-মিটিংয়ে তিনি উপস্থিত থাকতেন।
বক্তব্য দেয়ার আগে প্রথমে সরকার প্রধান হিসেবে এবং পরে দলের নেতাদের নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রধান হিসেবে অস্থায়ী বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা। পরে গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত চেয়ে বিশেষ মোনাজাত হয়। (সৌজন্যে:

Shortlink:

Views: 288
Story by on August 22, 2011. Bangladesh News, Latest Stories, Media Gallery, News. You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0. You can leave a response or trackback to this entry
Your Ad Here

Leave a Reply

Your email address will not be published.

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Protected by WP Anti Spam